দলীয় প্রভাব নয়, আইনের শাসনই হবে শেষ কথা : প্রধানমন্ত্রী

আজাদ প্রতিবেদন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, জনগণের ভোটে গঠিত নতুন সরকার একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে। দলীয় প্রভাব নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। তিনি বলেন, ‌‘মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য এই দেশ সমানভাবে নিরাপদ হবে।’ একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে অর্থনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জুয়া ও মাদক বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জানান, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই মাসকে অতিমুনাফার সুযোগ হিসেবে না দেখে পবিত্রতা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সরকার সকল প্রকার অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সকল ব্যবসায়ীর প্রতি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

 

রমজান মাসে ইফতার, তারাবীহ ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অপচয় রোধ ও কৃচ্ছতা সাধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি। সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সহজলভ্য ও নিরাপদ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শহরকেন্দ্রিক চাপ কমবে এবং পরিবেশের উন্নতি ঘটবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে তরুণদের দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। কর্মসংস্থান ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবার অধিকার সমান। ‘দল যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতে সরকার পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত